
অত্যন্ত পুরু কাঁচ কাটা খুবই কঠিন কাজ। যদি আপনি ঠান্ডা, পুরু কাঁচ কাটার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি আসলে কাটার যন্ত্রটিকে ধ্বংস হওয়ার জন্য বাধ্য করছেন। এতে কাটার যন্ত্রটি দ্রুতই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায়।
এটা রোধ করার জন্য আমরা উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইনফ্রারেড ল্যাম্প ব্যবহার করি; এগুলোতে বিশেষ ধরনের রিফ্লেক্টর থাকে। লক্ষ্যটি খুবই সরল—কাটার পথ জুড়ে কাঁচটিকে নরম করে দেওয়া, যাতে কাটার যন্ত্রটিকে অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না হয়।
পুরু কাঁচের ক্ষেত্রে সাধারণ তাপ কাঁচের পৃষ্ঠেই আটকে যায়; এটা কাঁচের ভেতরে যেতে পারে না। এজন্যই আমরা শর্ট-ওয়েভ ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করি। এটা কাঁচের ভেতরে ঢুকে কাঁচের আণবিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে দেয়।
আমরা কাঁচটিকে গলানোর চেষ্টা করি না; আমরা শুধুমাত্র কাঁচের ঘনত্ব কমানোর চেষ্টা করি। যখন কাটার যন্ত্রটি কাঁচটিকে স্পর্শ করে, তখন কাঁচটি একটু নরম হয়ে যায়; ফলে কাটার যন্ত্রটিকে কম চাপ সহ্য করতে হয়।
কিন্তু শুধুমাত্র ল্যাম্প ব্যবহার করলে তা অর্থহীন হয়ে যায়; কারণ অর্ধেক শক্তি বাতাসে চলে যায়।
এখানেই প্যারাবোলিক রিফ্লেক্টরগুলো কাজে আসে। এগুলো ইনফ্রারেড রশ্মিগুলোকে ধরে আবার কাঁচের ভেতরে পাঠিয়ে দেয়। যদি রিফ্লেক্টরগুলো সঠিকভাবে সাজানো না হয়, তাহলে মেশিনটি গরম হয়ে যায়; কিন্তু রিফ্লেক্টরগুলো সঠিকভাবে সাজালে শক্তি ঠিক যেখানে প্রয়োজন সেখানেই পৌঁছায়।
অবশ্য, এত শক্তি ব্যবহার করলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এই ল্যাম্পগুলো অত্যন্ত গরম হয়ে যায়; যদি এগুলোকে সঠিকভাবে সাজানো না হয়, তাহলে মেশিনের অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। রিফ্লেক্টর ও কাঁচের মধ্যকার দূরত্বটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কয়েক মিলিমিটারের পার্থক্যই কাঁচটিকে ভালোভাবে কাটা বা নষ্ট করার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।